ট্রাফিক ব্যবস্থা!!

       বর্তমান ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা তেমন একটা ভালো নয়। যদিও তার পুরো দোষ আমি ট্রাফিকদের দেব না। পাবলিক নামের রোগটা বাদ দিলে (এ নিয়ে পরে আলোচনা করছি!) ভারতবর্ষে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে যে পরিমাণ গাড়ির সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে , তাতে ট্রাফিক ব্যবস্থা সামলানোটাই সবচেয়ে বড় দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় বড় স্টেশনগুলো দিনের বেলা প্রায় মেলার আকার ধারণ করে! আর সেই সুযোগে ড্রাইভার এর হাত থেকে কিছু একটা ট্রাফিকের হাতে যাওয়া খুব একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। রাতের বেলা পরিবহনের লরিগুলির সময়, আর সকালে যখন কলেজ যাই, সে ঘটনা দেখা রোজকার অভ্যাস হয়ে গিয়েছে এখন। 
এতসব কিছু বাদ দিলে ট্রাফিক ব্যবস্থার উপর আমার ভরসা আছে। তবে মানুষ কতটা সচেতন এ ব্যাপারে?
কিছুদিন আগে বাসে করে যাচ্ছিলাম, হাওড়া ব্রিজে আমাদের বাস আটকান হল, এবং ফাইনও করা হল! কারণ???? - গেটে এক ভদ্রলোক ঝুলছিলেন (কন্ডাকটর নয়!)। ভদ্রলোক কিনা জানিনা, তবে তার জন্যে আমাদের বেশ খানিক টা দেরি হয়ে গেল! এটা আমি সমর্থন করি, কিন্তু তার জন্যে দেরী হওয়াটা মোটেই নয়। গাড়ির নাম্বারটা লিখে কেসটা পরে দিলেও চলত! তার জন্যে এতটা সময় নষ্ট করার মতো কিছু ছিল না।
তবে গেটে ঝুলে রাস্তার লোকগুলো না দেখতে দেখতে গেলেও এমন কিছু ক্ষতি হতনা। তবু সেই মানুষগুলোকে বোঝাবে কে?? তারা এতটাই আনন্দিত হন বাইরের মানুষ দেখে, হয়তো রাতেও জানলার ধারে শুয়ে থাকেন-যাতে রাস্তা দেখতে পান। এতে যারা বাস থেকে নামবেন, কিম্বা উঠবেন, তাদের যে অসুবিধা হয়, তা তারা বুঝবেন না। এবং তাদের জন্যেই অনেকে উঠতেও ইতস্তত বোধ করেন-পাছে উঠতে না পেরে পরে যান, সেই ভয়ে অনেকে উঠতেও চান না।
ট্রাফিক পুলিশের দৌলতে বাসের গতি কিছুটা বেড়েছে বইকি, তবে মানুষের সাহস কমছে কই!
যখন লোক বাসে বসে থাকেন, বাস ষ্টেশনে একটু দাড়িয়ে থাকলেই চেঁচামেচি করতে শুরু করেন, আবার সেই লোকটিই যখন বাসে ওঠার জন্যে দাড়িয়ে থাকেন, হয়তো বা বাসে উঠে বলতেও পারেন-এত তারা কিসের বাপু? একটুখানি দাড়িয়ে লোক তুলতে পারনা? যদি পরে যেতাম??!!!"
বাসে বসে তারা চেল্লাবেন-"গরুর গাড়ি চালাচ্ছ নাকি? একটু জোরে চালাতে পারো না??" বাস থেকে নেমে তারা বলবেন - "এত জোরে গাড়ি চালাবে সব, এক্সিডেন্ট হবে না তো কি হবে""
এখন আপনারাই বলুন-দোষটা কার???

0 comments:

Post a Comment