ফাঁকা দোলনা টা, ভিজে যায় বৃষ্টি তে,
ভিজে যায় আমার ছেলেবেলার ইতিহাস,
পুরোনো স্কুলবাড়ির হাতছানি, ধুলোমাখা,
খুঁজে ফেরে একমুঠো অবকাশ।

ভিজি আমিও একলা একলা রোজ,
একটা অন্য কিছু খুঁজে পাওয়ার খোঁজ।
ভেজে শুধুই আমার শূন্যতা।
তবু আকড়ে থাকি ফিরে পাওয়ার রূপকথা।

From Onyosomoy.
বাহিরে বহিছে সুখ, আর অন্তরে বহিছে শুধুই নিশ্বাস,
ভালো থাকার একমাত্র পথ 'বেচে থাকা' ই আজ আমার বিশ্বাস!
বেলা শেষে তাই ফিরে যাওয়া আমার অবুঝ গভীরে,
অন্ধকারে ফেলে আসা সেই সব মাটি আর সবুজের ভিড়ে...

From Onyosomoy.

হ্যা, বেসরকারীই বটে! মানুষই মরে  যখন ভুত হয়, তখন ভুতের পরিচয়ই বা আর পালটায় কেন! মানুষ যখন হিন্দু মুসলিম, ধনী গরিব ব্যতিরেকে শুধু বেসরকারি চাকুরিজীবি বলেই পরিচিত হয়ে থাকে, তখন ভুতের ক্ষেত্রেও সেই সূত্রই খাটে বৈকি!

এহেন কলিকাতা তে বেসরকারি চাকুরিজীবি মনে ক্ষমতা পরিসীমিত, যার বাইরে ভাবনারও কোনো আভাস পাওয়া যায় না! কাজ করা তো দূরের কথা!

যখন ভুতের কথাই হচ্ছে, কিছু বেসরকারি ভুতের কথাই বলা যাক। কলিকাতা এবং বহির্বিশ্বের বহু লোকের অভিমত, wipro অফিসে নাকি ভুত আছে। বহুজন নাকি তাদের দেখেওছে! যদিও যারা দেখেছে, তাদের কারা দেখেছে, তা আমার জানা নেই।


সে কথা কতখানি সত্যি, কত টা মিথ্যে, সে প্রশ্নে না যাওয়াই ভালো, তবে কথাখানা রোমাঞ্চকর তো বটেই!
গত আড়াই বছর সেই ভুতুড়ে অফিসেই কাজ করছি আমি! যদিও তেমন কোনো ভুতুড়ে লোকের হদিশ পাইনি! বলাই বাহুল্য, ভুত বাবাজি থেকে থাকলেও দর্শন দিতে নারাজ!
বেশ কিছু ঘটনা যা শুনেছি, যেমন, wash রুম এ নাকি মাঝে মধ্যে কোনো সাদা কাপড় পরে কাউকে দেখা যায়। আবার নাকি সে নিমেষেই মিলিয়ে যায়। লিফ্ট টাও মাঝ রাতে কখনো কখনো থেমে যায়, দরজা আপনা থেকেই খুলে যায়, যেন কেউ লিফ্ট ব্যবহার করছে!
সাম্প্রতিককালে আমি সেই বিল্ডিং গুলোরই একটাতে কাজ করছি। যথারীতি আমি আর আমার সাথে যারা রয়েছে, সর্বদাই খুঁজে চলেছি তাদের!

মাঝে কয়েকদিন কাজ শেষ করতে বেশ দেরি হতো। তখন রাত পর্যন্ত কাটাতে হতো। সে সময়ে আমিও বেশ কিছু ঘটনা দেখেছি, যার কোনো বাস্তবিক ব্যাখ্যা আমি পাইনি।

খালি ঘরে আমি যখন কাজ করছি, ঘরে আর কেউ নেই। হঠাৎ ই শোনা যেত কীবোর্ড এর শব্দ। বুঝি কেউ কম্পিউটার এ কাজ করছে। প্রথম দিন টা অতটা খেয়াল করিনি। দ্বিতীয় দিন ও একই ঘটনা। ভাবলাম বুঝি সিপিইউ এর ভিতরে কিছু আওয়াজ হচ্ছে। উঠে দেখতে গেলাম। কিন্তু ঘরের পিছনের দিকে গিয়ে যখন দাঁড়ালাম, আওয়াজ টা বন্ধ হয়ে গেল। রোজই এই একই ঘটনা ঘটতো। আমি যেই পিছনে তাকাতাম আওয়াজ বন্ধ হয়ে যেত। সিপিইউ এর ফ্যান এর আওয়াজ আমি চিনি। কিন্তু এ কীবোর্ড এর আওয়াজ এর কোনো উৎস খুঁজে পেতাম না।

মাঝে মাঝে দরজাতে টোকা দেওয়ার শব্দ হতো! বাইরে বেরিয়ে কাউকে দেখতে পেতাম না। আর এরকম টা ঠিক তখনই হতো যখন আমি একা থাকতাম।

সেদিন কয়েকজন বললো ব্যালকনিতে যাওয়ার গেট টা নাকি আপনা দিয়েই খুলে আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একজন নয়, চার পাঁচ জন একই ঘটনা দেখেছে, এবং সেখানে কেউ ছিল না! না কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, না হাওয়ায় খুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ!!

এত কিছু বুঝি, তবু তাদের দেখতে পেলাম না আজ অব্দি। সে ইচ্ছে আমার অপূর্ণই রয়ে গেছে। হবেও না বোধ হয়।

সে যাই হোক, বোধ হয় তারা দেখা দেন না, তারা বেসরকারি চাকুরিজীবি ছিলেন বলেই। ক্ষমতার সীমা পার করতে তারা কেউই আশাবাদী নন। সেই ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করার পর যখন আমার নিজের বাড়ি তে শুধু শুতে যাই, আবার কালকের কথা ভাবতে ভাবতে না জানি কালও এসে পড়ে! ভাবতে ভাবতেই শেষ হয়ে যায় দিন , সপ্তাহ, মাস, বছর। রয়ে যায় শুধু সংজ্ঞা টা। চাকুরিজীবি!

সেই ভুতদের বেলাতেও বোধ হয় তাই! হয়তো এই অফিসে, নতুবা অন্য কোনো অফিসে, হয়তো অফিসেই নয়, অন্য কারো বাড়িতে, কারও কারখানায়, কারও সেরেস্তায়, কারও জমিতে, এভাবেই কেটেছে দিন! রাতও! আর এমনিভাবে নিজের ও পরিবারের জন্য শহীদ হয়েছেন। সেই তাদের ক্ষমতা সীমিতই হবে, তা তো জানা কথা! তাই তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ আমি দেখিনা!

আমি নির্বিঘ্নেই তাদের সাথে দিন ও রাত কাটাই। জানি তারাও আমার মতই। অনেক কিছু ভাবে। কিন্তু করার সময়, ওই! "বেসরকারি চাকুরিজীবি"!!

From Onyosomoy.
আমি হারিয়ে ফেলেছি ভাষা,
আমি হারিয়ে ফেলেছি ঘুম,
আমি হারিয়ে ফেলেছি শৈশব,
আর আমার সাদাকালো ক্লাসরুম!

আমার একলা রঙিন আইসক্রিম,
আমার বাড়ি ফেরার ফুটবল,
আমি হারিয়ে ফেলেছি শৈশব,
আমার মেঠো পথের কাশফুল।

আমি হারিয়ে ফেলেছি নদী,
তার সাঁতরে বেড়ানোর ইচ্ছে,
আমার সন্ধ্যে নামলে নিঝঝুম,
আমায় একলা করে দিচ্ছে!

আমার সোহাগ ভরা শৈশব,
জানি তুমিও গিয়েছো হারিয়ে,
আমার অলীক স্বপ্ন আঁকড়ে,
গিয়েছি আলোকবর্ষ পেরিয়ে।

জানি ফিরবো না আর কোনোদিন,
সেই গল্প শোনার আসরে,
যেখানে সন্ধ্যা নামলে তারারা,
ভাসে কল্পনার সাগরে।

সেই ধূসর নীল আকাশটা,
আজ শুধু কংক্রিটেরই গৌরব,
আজ সব পেয়েছি'র চাহিদায়,
আমি হারিয়ে ফেলেছি শৈশব।


From Onyosomoy.

আনন্দ! আদতেই একটি আনন্দময় শব্দ! তবু এ শব্দও যে বিপদজনক হতে পারে, তা কে জানতো!

আমার এক বন্ধুর একটি অভ্যাস ছিল! বদভ্যাস ই বলা ভালো! মানুষজনকে "ভালো তো" বলার জায়গায় বলতো "আনন্দ তো!"

একদিন গাড়িতে উঠেছে সে! পরিচিতা একজন মেয়েকে দেখে বলে বসেছে সে কথা! নতুন শব্দ জুড়ে  বলেছে "কি! বেশ আনন্দ তো?!"

দুর্ভাগ্যবশত মেয়েটির পরীক্ষার ফলাফল খুব খারাপ হয়েছিল, এবং সে নিয়ে সে বেশ চিন্তিত ছিল। এমন সময়ে এরকম একটা কথা জিজ্ঞেস করায় তার উত্তর কি হতে পারে, তা জানারই কথা!

তারপর থেকে সে আর কখনো কাউকে আনন্দের কথা জিজ্ঞেস করার সাহস পায়নি!!
From Onyosomoy.
  প্রতি বছরের মতো এ বছরও শেষ হয়ে গেল বইমেলা। হ্যা, সেই অবধারিত মন্তব্য টাই বইমেলার সবার মুখে। তবু যেটুকু তার 2015 থেকে 2016 হতে লেগেছে, তা হয়তো গত বছর তার ছিল না। আগামী বছরেও থাকবে না। সেই নতুনের আনন্দ টুকু বুঝি একেবারেই নতুন। সেই চিরাচরিত ভিড়, বই কেনা, না কেনা, দেখা, না দেখা, হারানো, খুঁজে পাওয়া, সেই ছোট্ট ছোট্ট আবেগ গুলো আবার ফিরে পাওয়া মুশকিল! তাই হয়তো প্রতিটা বইমেলা  আলাদা। কিছু নতুন দিয়ে যায়, বইয়ের বাইরেও!
  এক মহিলা বলছিলেন, "খামোখা এখান দিয়ে কিনলে তো 10% ই ছাড় পাওয়া যাবে। কলেজ স্ট্রিট দিয়ে কিনলে তো 20-25 % ছাড় পাওয়া যাবে!!" প্রসঙ্গ টা বাস্তবিক। আমরা এই মুদ্রাস্ফীতির যুগে মূল্যবোধ টাকেই প্রাধান্য দেব, এ আর নতুন কি!! তবে কিনা আমরা যারা নিত্য যাত্রী,যাদের সকাল হয় অফিসে আর সন্ধ্যে, সেটাও হয় অফিসে, তাদের জন্য বইয়ের চাহিদা সাময়িক। নেহাতই উদ্দেশ্য প্রনোদিত। এখন তাদের এই সময়ের কালচক্রে (মানে ওই কাল করবো, কাল করবো, ওই আর কি!!) অফিস ছেড়ে বই কিনতে যাওয়া খুবই মুশকিলের! এহেন সময়ে যদি কেউ সব বই, যা কলেজ স্ট্রিট এ দেখতে পাওয়া যায়, যা গোডাউন এ অন্ধকারে পরে থাকে , এমনকি যা কলেজ স্ট্রিট যাওয়ার আগেই প্রেস থেকে বইমেলায় পৌঁছায়, সেই সব বই হাতে পেলে 10% ছাড় আমাদের তরফ থেকেও দেওয়া যেতেই পারে। বিশেষত যেখানে আবেগ জড়িয়ে আছে।
  বইমেলা আমার মতো অনেকেরই পিছুটান। সুযোগ সন্ধানী বহু মানুষের স্মৃতি আকুলতার খোরাক যোগায় বইমেলা। সেই যে ছোট্ট বেলায় বাবার হাত ধরে বইয়ের স্টলে স্টলে ঘুরেছি, বইয়ের গন্ধ গায়ে মেখেছি,  আর টুকরো টুকরো Nostralgia গুলোকে আকড়ে ধরে আজও বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে চলেছি, সেই পরম্পরা আজও চলেছে বাকি দের মধ্যে। কত ছোট্ট ছোট্ট অবাক হওয়া মুখ সামনে নাম না জানা অজানা বইয়ের নাম জানতে ব্যস্ত, হয়তো তারাই একদিন তাদের কচিকাঁচাদের নিয়ে ভিড় জমাবে বইমেলায়। ক্রমেই চলতে থাকবে তাদের এই বইয়ের দেশে adventure, অবলীলাক্রমেই চলতে থাকবে!
  হয়তো এই রীতি, এই আদর্শ গুলো একই থেকে যাবে, পাল্টে যাবে শুধু আধুনিকতার পরিচয় টা, পাল্টে যাবে বই , তাদের লেখক, তাদের লেখারাও.. আমরা যা পেয়েছি, তা পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো পাবে না। যা তারা পাবে, হয়তো আমরা তা জানতেও পারবো না। কিছুটা আবেগ আর কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই কেটে যাবে স্মৃতির বইমেলা।।

From Onyosomoy.

শেষ দিনের শেষ আলোটুকুও অবসানের পথে, হয়ত ঠিক, জীবনের নয়, তবে নিটোল মাটির সুরে গড়া কোন সম্পর্কের। জ্বলে উঠেছিল LCD Screen এর আলোটা। একরাশ অচেনা আবেগ নিয়ে তাকিয়েছিলাম Message-পানে। হাজার হোক, তবু মন কি তা জানে! (মানুষ পাথর হয় কেমনে?) উত্তর খুঁজে পাইনি সেদিন, আর আজও! বলেছিল-"ভাগ্যের ফের! আবার নাকি দেখা হবে!" সেকি আমার শহরেই! সেই ছোট্ট দুটো হাত আজ অনেক বড় হয়ে গেছে, আমার হাতের থেকেও বোধ হয় বড়! বাড়েনি শুধু স্মৃতির দেওয়ালটুকু! যন্ত্রণার কোঠরে আগলে রাখা সময়গুলো সত্যিই কি আর ফিরবে না? সত্যিই কি সে আজ শুধুমাত্র অন্য একজন, হাজার মনের মতই??


From Onyosomoy.


মন, আলোর ফাঁকে, বেড়ে ওঠা কখন,
স্বপ্নের খোঁজে পথ চেয়ে থাকা মন,
সময়ের পাতায় শেষ লেখা গল্প তখন,
আলোর নিশানায় শেষ কথা শুধুই মন।
নকশি কাঁথার মিঠে রোদ্দুর যখন,
স্কুলের বিকালে অপেক্ষায় থাকা জীবন।
নিয়মের খেলায় নিয়ম ভাঙ্গা সাহসী মন,
নিষেধের বেড়াজালে তার ছোট্ট প্রতিসরণ।
প্রশ্নের আড়ালে উত্তর খোঁজেনি মন,
রাতের মিনারে স্বপ্নে ভেজা একটা মন,
খোলা আকাশে বৃষ্টির নেশা তখন,
অবহেলায় কুড়ে খাওয়া ছোট্ট জীবন,
বিকেলের রাঙা রোদে ছোট্ট ধূলির ক্ষণ।
স্বপ্নের কুয়াশায় ফিকে হয়ে গেছে মন,
তবুও ভালো লাগার, ভালবাসার এই মন,
দুঃখের ক্যানভাস ভুলে গিয়েছে কখন।

From Onyosomoy.


নিয়ন আলোর ঝড় বইছে দিনে,
আমি একলা সুখ খুঁজে ফিরছি রোজ,
হারিয়ে যাওয়া কোন শূন্যতায়,
কোন অচেনা সুখ দিচ্ছে ডাক আমায়
এ কোন ভিনদেশীদের ভীড়,
আমি একমুঠো অস্থির,
ফিরে পাব কি তোমায় আর কোনদিন?
আমার হাজারো যন্ত্রণায়,
আমি ফুটপাতের সন্ধ্যায়,
খুঁজে ফিরছি স্বপ্ন রোজ,
কত সাদা কালো বেরঙিন।


I want to live until I die.
A life with real hope, not just the act of living.
This urban winds arranges my living,
But don’t let me to live.
I make my dreams to live,
But my dreams make me to leave.
Something could be better for me.
Now just something left, others have gone.
Sometimes I think of that something’s,
When my dreams don’t let me to dreams.
But these urban winds made me trained,
To live happily without happiness.
Now I can just hope of a little hope,
Which may help to save myself.
From this urban winds, the winds of modernity.
I need something quite new,
Inspiring the winds modernity, not the urban.

ছোট্ট পেনসিল আর খাতার ভিড়ে, জুতোর ফিতেয় আটকা পড়া পথ,
ছোট্টবেলার ছোট্ট ছোট্ট স্বপ্ন আর পাখনা মেলা ছোট্ট হাসির রথ,
সুখের কান্না, দুখের হাসি, কতো হাজার হাজার গল্প,
আজ মিথ্যে ভরা জীবনটাতে সত্যিগুলোই রয়ে গেছে অল্প।
কাজের ভীড়ে বয়সটা আজ ফ্লাওয়ার ভাসের শুকনো গোলাপ ফুল,
জানিনা সেই ছোট্ট জীবনে কোথায় ছিল ছোট্ট থাকার ভুল।
আজও খুঁজি রং-পেন্সিল, ড্রয়িং খাতার সুখ,
সাত রঙ হারিয়ে গেছে, পড়ে আছে আজ শুকনো কিছু মুখ।
মোবাইলের জটিল শব্দ মুখের মাঝে ফোটায় না আজ হাসি,
হঠাৎ পথে দেখা হলে কথার মাঝে শুধুই 'আজ আসি'।
মাঠের কোনে ছোট্ট দোলনা, হয়তো কিছু বলতে চায় আজ,
চেক, ড্রাফট আর ফাইল নিয়ে আমার এখন শিডিউল করা কাজ।
সেদিন ছিল আকাশ ভরা তারারা মিটমিটে,
আজ জানলা খুলে দেখি হঠাৎ আকাশটাই গেছে ঘেঁটে!
তাদের দেখি স্কুলের ভীড়ে, যারা আজ ছোট্ট হয়ে আছে,
বলি, 'তোরা ছোটই থাকিস' বড় হওয়াটাই বাজে।
আমিও হব তদের মতই হাওয়ায় ফুরফুরে,
আমার ছোট্টবেলা, তোর কাছে আমি আবার আসব ফিরে...

 

5-1-12
ভোরবেলা কম্পিউটার এর স্ক্রিন এ রুটিনে টা কখন যেন দিনের শেষে গোধূলির টানে ডেকে নিয়ে যায় সে কোন অন্ধকারে। দিনের শেষে একে একে সবকটা মুহূর্ত হারিয়ে যায় অতীতে। প্রশ্নগুলো যখন দিনের শেষে হাতছানি দিয়ে বলে, অতীতে ফিরে যেতে, আমি তখন আলোর মাঝে দিশেহারা, রোজকার ব্যস্ত রুটিনে আমি এখন উনিশ। আমার থেকে আজ বহু দূরে দারিয়ে আমার শহরটা। একলা পায়ে জল থই থই বৃষ্টি ভিজে আমি আজ আর ততটা সুখ খুঁজে পাইনা। এমনকি সেদিনের ভিজতে থাকা সুমন আর আজকের ভিজে যাওয়া সুমনও অনেকটাই আলাদা। প্রায় সেই অতীতের মতই। যদিও অতীত আমার সবচেয়ে কাছের যায়গা, রোজই আমার অবসর এ হাতড়ে বেড়াই অতীতকেই, পুরনো মানিব্যাগ এ ভিজে যাওয়া ছবি, পুরনো সিম এ সেভড মেসেজগুলো, খাতার শেষ পাতায় আমার লেখা তার নাম, আর প্রথম পাতায় তার লেখা আমার নাম! তবু অতিতে থেকে যাওয়া আমার হল না। শুরু কিংবা শেষের মাঝে ঝলসানো আলোয় আমার স্বত্বা খুঁজে ফেরে তাকে, আমার ফেলে আসা বর্তমানকে, হারিয়ে যাওয়া ভবিষ্যৎ আর সেই কল্পনার অতীতকে...
28-2-12

বেশ কিছু দিন পর আবার আজ একমুঠো সময় পেলাম, লিখতে বসার জন্য। যদি আজ বিশেষ কিছুই লেখার নেই, সারাদিনের তোলপাড়, আখ্যান টা এই কদিন'এ একটু বেশীই প্রয়োগ হয়েছে বইকি! তাই ভাবনার চিন্তা করার সুযোগ পাইনি।আমার শুধু চিন্তা হচ্ছে পরীক্ষা নিয়ে। জানিনা পাস করব কিনা, জীবনে এরকম দুর্বিষহ অবস্থা আগে কখন হয়নি, শুধু আশা আর গরব নিয়ে যে জীবন চলে না, টা আজ তের পাচ্ছি! তবে শোধরাতে আর সময় পাচ্ছি কই!

আজ বিজ্ঞান দিবস। জানিনা, কটুকু আমি দিয়েছি বিজ্ঞানের জন্যে কিন্তু আমার জীবনে বিজ্ঞানের প্রভাব পুরোটাই, নিজেকে আজ বিজ্ঞানসম্মত বলতেও কোনো দ্বিধা বোধ করব না! শুধু ভাবি, বিজ্ঞানের সব সূত্র যদি মেনে চলতাম, আজ যা যা পেয়েছি, তাদের নিয়ে এত আফসোস হত না!


22-2-12
আজকের গল্পটা আবার নতুন করে শুরু করা যাক। এনিয়ে বহু গল্প আমার শুরু হয়েছে, কিন্তু শেষ করার ইচ্ছে বা সময় কোনটাই থাকেনি শেষ পর্যন্ত। হয়তো এ ডায়রির অবস্থাও তাই হবে, কে বলতে পারে? অনেকদিনের জমে থাকা আবেগগুলোই বোধহয় নতুন গল্প তৈরি করে, না হলে হঠাৎ জীবনে শব্দগুলো এত গুরুত্বপূর্ণ কেন হয়ে উঠত? স্কুলের শেষ দিনটা কাটাবার প্লান ছিল অন্যরকম, কেটেছিল অন্যরকম। হয়তো শেষ দিনের শেষ প্ল্যানটার কথা সেদিন কারোরই মনে ছিলনা।

মনে থাকার কথাও নয়, পরের দিনের Schedule টা তৈরি যে!! আজ বহু কটা দিন কাটিয়ে এসেছি college Life এ। এখন আর স্কুলের কথা মনে পড়ার কথাও নয়। শুধু যা পাস দিয়ে যাওয়া আর আসার সময় একনজরে স্বাধীনতাকে খুঁজে পাওয়া। তবু সেদিনগুলো আর ফিরে পাব কি? ঘুম ভাঙ্গা অচেনা ভোরে যখন আমার স্বপ্নেরা আমায় জাগিয়ে তলে, শহুরে হাওয়ার ঢেউ আসে আমার চারপাশে  কিম্বা আমার শহর এর আলো ঝলসানো রাতগুলো যখন আমার দিন গুনে যাওয়া জীবনে বয়ে যায়, বড্ড বেশি অবাক লাগে নিজের কথা ভাবলে। কোনো একদিনের সেই ফেলে আসা ছোট্ট ছেলেটা আর আজকের আমির মধ্যে হঠাৎ যেন একটা বড়ো তফাৎ  সৃষ্টি হয়ে গাছে। হঠাৎ যেন চারদিকের সবকিছুই আলাদা।

আমার চেনা শহরটা একই রয়ে গেছে, শুধু দিনগুলো বদলে গেছে। ভোরের alarm tone এ পাখিদের আনাগোনা, কিম্বা রাতে মোবাইলের ঘুমপাড়ানি গান, আমার জীবনে নতুন আলো এনেছে-চোখ ধাঁধানো দিন গুনে যাওয়ার আলো! সেই আলো তাই আজ শহরটাকেও বড়ো অচেনা লাগে। সেই ছেলেটা যে শহরটাকে চিনত না, চিনত না অলিগলিগুলোকেও, তবু এ শহরের আড্ডা-তর্ক, গল্পে-আনন্দে, দুঃখ-সুখে সবই ছিল তার অস্থিমজ্জায়, আজ সে অন্য শহর চিনেছে নিজের শহর ভুলে। আমার শহরের আলো ঝলসানো রাতগুলো আমার কাছে একবারে আনকোরা। যে শহরে রাত্রি আমার ঘুম হয়ে আসত, আজ সেই রাতগুলোতে জীবনের নেশায় মাতাল হয়ে যাওয়া উন্মাদদের ভিড়। জীবনের লয়গুলো আজ ছন্নছাড়া। তাই হয়ত কবিতার পাতাতেও আর মন বসতে চায়না।
18-2-12
আজও ভোরের রোদ্দুর আমার চোখের পাতায় তার স্নিগ্ধতা রাখে গেছে। আজ আমি স্বাধীনের দলে নাম লিখিয়েছি। সমস্ত ব্যর্থতা হয়ত ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে সমস্ত স্বপ্ন আবার নতুন করে দেখা তো সম্ভব! আমি চাইনা আর ফিরে যেতে সেই দিনগুলোতে, যার ইতিহাস কোনদিন আমার সঙ্গী হয়নি;একলা দোসর, বরং হাজার সভ্য-মাঝে আমায় একলা করে দিয়েছে বারংবার। তাই আমি আজ পলাতকের দলে। জীবনটাকে আজ শূন্য থেকে বড় করতে ইচ্ছে করছে। আমায় কুড়ে খাওয়া নিঠুর স্বপ্ন-গুলো আপাতত চোরা-সিন্দুকেই বন্ধ থাক।
মিঠে রোদ্দুর ফুতে ওঠা স্নিগ্ধতা গায়ে মেখে আজ আমার দিনের শুরু। শেষটা যে ভাল হবেই তার কোনও আশা না করাই ভাল। তবু যখন বৃষ্টি তার ধুলোর উড়ান দিয়ে জানিয়ে গেছে, আজকের সকাল একটু অন্য রকম হবে বৈকি! সারাদিনের ব্যস্ততা আমার প্রতিদিন গুলো কেমন যেন কেড়ে নিয়েছিল, আমার কাছ থেকে। প্রতিদিন শুধুই ঘুমতাম, তবু ঘুম আর হত কই! জানিনা কেন আজ এই অন্য রকম, তবু এ সুখ অসহ্য হবে না!
16-2-12
আজ অনেকদিন পর আমি আবার শৈশবের আঙ্গিনায় ফিরে যাওয়ার সুখ খুঁজে পেয়েছি, আজ এই ভোরের বৃষ্টি মাখা গন্ধে সত্যিই সেই ছোটবেলার কথাই মনে পড়ছে। তবে কোন দুঃখ নয়, কোন যন্ত্রণা নয়, সেই সাধারণ, সহজ সরল শৈশব যেন আবার ফিরে পেয়েছি আমি। আজ এ এক অন্য আমি, আমারই মধ্যে করছে পাগলামি। আজকের আকাশ বর্ষাকালের আকাশের চেয়ে অনেকটা আলাদা। ঠিক যেমন কৈশোরের যন্ত্রণার সাথে শৈশবের আঙ্গিনার সুখের সম্পর্ক! আজ বড্ড বেশী ভিজতে ইচ্ছে করছে, ইচ্ছে করছে সমস্ত দুঃখ, ক্ষোভ, হতাশা ধুয়ে ফেলে এক নতুন জীবন খুঁজে পেতে, ইচ্ছে করছিল সেই সমস্ত সুখ ক্যামেরা-বন্দি করতে, যা কাল বৃষ্টি আমায় দিয়েছে, কিন্তু ভিজে রাস্তার জল থই থই আর আমার হঠাৎ খুঁজে পাওয়া অক্লান্ত স্বাধীনতাকে স্মৃতিতে বন্দি করা সম্ভব নয়। সে যে স্বাধীন। তার স্বাধীনতাই যে আমার সুখের খোরাক।
15-2-12
হতাশহীন এই শূন্য বুকে আজ কোন ক্ষোভ বা আক্ষেপের সুর নেই বটে, তবু ছোট্ট বেলাটাকে আজ অন্যভাবে মিস করছি। এত জীবনের জটিলতা বোধ হয় তখন ছিলনা, না ছিল কামনার উদ্বেগ, না সম্মান রক্ষার প্রেম! ভালবাসতাম, তো শুধু ভালোইবাসতাম! কোনো কিছু পাল্টা প্রশ্ন না করেই। আমি আজ সেই ভালবাসাই দেখতে চাই, যেখানে মন প্রাধান্য পাবে, শরীর নয়। যদিও জানি, এ যুক্তিহীন কথাবার্তা শুধু আমার মত পাগলই বলতে পারে। আজ শুধু একটা কথাই বলবার রয়েছে। আমি মনকে ভালবাসি। এই ১৯ বছর ধরে সে আমায় সঙ্গ দিয়েছে, এমনকি ঘুমে অচেতন স্বপ্নে-দুস্বপ্নেও সে তার স্মৃতির ভাণ্ডার উজাড় করে দিয়েছে আমাকে। মন, সত্যিই সে বড় অবুঝ, বড় হলেও সে যে বড় হয়েছে, তা কিছুতেই মানতে চাইবে না, কিন্তু গোধূলি যে এলো বলে...
14-2-12

আজ তো ১৪ ই ফেব্রুয়ারি! হিসাবমতে Valentine's Day! যবে থেকে এই দিনের সম্পর্কে জেনেছি, এদিন আমার জীবনে খুব একটা ভালো যায়নি, আর আজও যাচ্ছে না!
    Valentine's Day তে সকলকেই একটা কথা বলা উচিত, একদিনের আড়ম্বর জীবনকে হঠাৎ করে স্বাধীন তো করতে পারে, কিন্তু সেই আড়ম্বর যেন দৈনন্দিনতায় পালতে না যায়। আমি বলছিনা রোজ হাজারবার "I Love You" বলাটা ভালোবাসা। ভালোবাসা কি তা যদি তোমরা বুঝে থাক, At least তাদের ভাল রেখ।
13-2-12
আজ অনেকদিন পর আবার ডায়েরি-র ছোঁয়ায়। গত একটা মাস আমি ভোরের স্বপ্ন মিস করেছি। জীবনটাকে ফাকি দিয়ে depression কে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছি। তবু সে তো এত বোকা নয়। পরিস্থিতি আজ আমাকেই অসহায় করে দিয়েছে। আজ আমার ভালোবাসা আমায় কোন যন্ত্রণা দেয়না। আমি জানি সে ভাল আছে, আর তাই আমিও ভাল আছি। কিন্তু বর্তমান রেহাই দিচ্ছে কোথায়? সর্বদাই সে আমার কাছে পিছুটান রেখে গেছে, কালও, আজও। দৈনন্দিন জীবনযাপনই আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠছে। জানি এর সমাধান হবে না, তাই একভাবে একে এর উপরেই ছেড়ে দিয়েছি। আমি তো নেহাতই ছেলেমানুষ, জীবনের কাছে, কিন্তু জীবন তো At least আমাকে বুঝবে।